বাদামী প্রেতাত্মা রহস্য

ইংল্যান্ডের প্রথম রাজা স্যার রজার টাউনসেন্ট প্রায় ৩০০ বছর আগে জেলা শহর নরফকে থাকতেন। তিনি যখন টাউনসেন্ট প্রাসাদ তৈরী করেন তখন পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে দামী দামী পাথর সংগ্রহ করে এনেছিলেন। পুরো ভবনটিই তৈরী করা হয়েছিল চমৎকার মার্বেল পাথরে। ১৭১৩ সালের ঘটনা। লর্ড টাউনসেন্ট বিয়ে করেন ডরথি নামের এক অপরূপা সুন্দরীকে। ডরেথি অবশ্য তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন না। তার প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল ডলি। তিনি খুব সুন্দরী ছিলেন কিন্তু টাউনসেন্ট তার প্রথম স্ত্রীকে ভালবাসতেন না। টাউনসেন্ট তাকে গৃহবন্দী করে রাখেন। ডলি রাজাকে প্রচুর ভালবাসতেন স্বামীর জন্য তিনি সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকতেন। আর তাই তিনি কখনো স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কোন আপত্তি করেন নি। আর ডরেথি অপরূপা সুন্দরী হওয়ায় তাকে নিয়েও সে সময় প্রচলিত ছিল নানা ধরনের কথা। কথিত আছে লর্ড ওয়াটসনও নাকি তার স্বামী ছিলেন। আসলে ডরেথি ছিলেন দুশ্চরিত্রা। আর তাই রাজা তাকেও দেখা শোনার জন্য পাহারার ব্যবস্থা করেন। এভাবেই চলছিল টাউনসেন্টের সংসার। কিন্তু বড় ঝড় নামে ১৭২৬ সালে। যখন তার প্রথম স্ত্রী মারা যান। বেচেঁ থাকার প্রবল ইচ্ছা ছিল ডলির, তিনি মরণকে খুব ভয় পেতেন। তবুও তাকে মরতে হলো। এই দুর্ঘটনা রাজাও মেনে নিতে পারেননি। তিনি মাঝে মাঝেই আনমনা হয়ে বারান্দার ইজিচেয়ারে বসে থাকতেন। একদিন রাজা তেমনই বারান্দার ইজি চেয়ারে বসে ছিলেন। হঠাৎ পাশের ঘরে যেখানে ডলি থাকতেন, সেখানে বিকট শব্দ হলে রাজা চমকে গেলেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে পাশের ঘরে উকি দিলেন। এই দুর্ঘটনা রাজাও মেনে নিতে পারেননি। তিনি মাঝে মাঝেই আনমনা হয়ে বারান্দার ইজিচেয়ারে বসে থাকতেন। একদিন রাজা তেমনই বারান্দার ইজি চেয়ারে বসে ছিলেন। হঠাৎ পাশের ঘরে যেখানে ডলি থাকতেন, সেখানে বিকট শব্দ হলে রাজা চমকে গেলেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে পাশের ঘরে উকি দিলেন। কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। সব কক্ষ তন্ন তন্ন করে খুজতে লাগলেন তিনি। হঠাৎ দেখলেন কে যেন সিড়ি ভেঙ্গে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। হঠাৎ হালকা আলো অন্ধাকারের মধ্যে মনে হলো তিনি আর কেউ নন তার প্রথমা স্ত্রীর প্রেতাত্মা। কিন্তু তাকে বাদামী লাগছে কেন? সিড়ি ভেঙে নিচে নামতেই রাজা আর কিছুই দেখতে পেলেন না। এরপর দীর্ঘদিন ঐ কক্ষের দিকে পা বাড়াননি তিনি। ক্রমেই এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে কৌতুহলী মানুষ বাসাটি দেখতে আসতে আরম্ভ করে। আর এভাবেই প্রাসাদসহ পুরো এলাকাটি "রয়হাম হল" নামে পরিচিত হয়। প্রেতাত্মার এই সত্যকাহিনী ওপন্যাসিক ক্যাপ্টেন ফ্লেদিক মেরিয়েটের মনে ব্যাপক দাগ কাটে। কৌতুহল বশত তিনি এক রাত সে প্রাসাদে কাটান। সে রাতে হঠাৎ কার যেন কান্না শুনতে পান তিনি। সব কক্ষ তন্ন তন্ন করে খুজেও কারও দেখা না পেয়ে সে রাতে তিনি বাসায় চলে যান। পরে আরেকদিন তিনি তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। গভীর রাতে তারাও কান্নার শব্দ শুনতে পেলে তারাও পুরো প্রাসাদ খুজতে থাকেন। হঠাৎ দেখেন বাদামী রঙের একটি নারী একটি কক্ষে বসে কাদছেন। আক্রমণের ভয়ে তারা সঙ্গে নিয়েছিলেন গুলি ভর্তি পিস্তল। তারা নারীটির কাছে এগোতেই তিনি যে কোথায় হারিয়ে গেলেন তারা বুঝতেও পারলেন না। এরপর প্রায় শতাব্দীকাল ধরে এ রহস্যটি লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। তারপর ১৯৩৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এটি নিয়ে আবার বিশ্বব্যাপী হইচই পড়ে যায়। ঐ নারীকে নাকি আবার দেখা গেছে। এমনকি তার ছবিও নাকি তোলা সম্ভব হয়েছে। এমনই দাবী করলের ক্যাপ্টেন প্রোভান্ড ও ইন্দোসিরা নামের দুই ফটো সাংবাদিক। তারা রায়হম হলে রাতে ছিলেন এই আশায়- যদি বাদামী রঙের ঐ নারীর কোন ছবি তোলা যায়। আর তারা নাকি তা তুলেছিলেনও। সে ছবি নাকি তাদের ছবিতেও ছাপা হয়েছিল। 
এরপর থেকে ইংল্যান্ডের রায়হম হল মানেই বাদামী প্রেতাত্মার পিশাচ বলে মনে করেন অনেকেই।
x

মন্তব্যসমূহ